Skip to main content

বৈষম্য আর লোভ: কুমিল্লায় নারী মাদক পাচারকারী বাড়ছে !!!!!!

বাংলানিউজ:[সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২০১] কুমিল্লা সীমান্তে মাদক চোরাচালানির সঙ্গে আশঙ্কাজনক হারে যুক্ত হচ্ছে নারীরা মজুরি বৈষম্যের কারণে হতাশা, কর্মসংস্থানের অভাব এবং বেশি অর্থের লোভে দরিদ্র নারীরা পেশায় জড়িয়ে যাচ্ছে..

ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য কুমিল্লা সীমান্ত পথে বাংলাদেশে আসে আর মাদক চোরাচালানে ব্যবহার করা হচ্ছে অসহায় দরিদ্র নারীদের

এদিকে, সংশ্লিষ্ট এলাকার থানাগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নারী পুলিশ না থাকায় নারী মাদক পাচারকারীদের সব সময় আটক করা সম্ভব হচ্ছে না

পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সমান কাজ করলেও মজুরিতে রয়েছে বৈষম্য মাটি কাটা, পাথর ভাঙা, বোঝা বহন করা, নির্মাণ বা  ইটভাটার কাজে একজন পুরুষের তুলনায় নারীর দৈনিক পারিশ্রমিক অর্ধেকেরও কম

একজন পুরুষ শ্রমিকের দৈনিক মজুরি আড়াইশ থেকে তিনশ টাকা হলেও সমপরিমাণ শ্রম দিয়ে নারী শ্রমিক পায় ১০০ থেকে ১২০ টাকা কোনো মিল ফ্যাক্টরিতে একই শ্রেণির একজন পুরুষ শ্রমিক প্রতিমাসে হাজার থেকে হাজার টাকা বেতন পেলেও একজন নারী শ্রমিক পান থেকে সাড়ে হাজার টাকা

বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিকদের দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে কুমিল্লার মাদক ব্যবসায়ীরা এখানে মাদক চোরাচালানে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নারীরা

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে বেশির ভাগ মাদক পাচার বিক্রি হচ্ছে নারীদের মাধ্যমে নারীরা সহজে শরীরে লুকিয়ে মাদক বহন করতে পারে মাদক ব্যবসায়ীরা সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে মাদক পাচার ব্যবসায় লিপ্ত করছে নারীদের

কুমিল্লা থেকে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার মাদক ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে আর সেগুলো বেশির ভাগই বহন করছে নারীরা তারা বিভিন্ন কায়দায় শরীরের সঙ্গে বেঁধে যাত্রীবেশে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পণ্য কোনো গোপন সংবাদ ছাড়া ধরা যাচ্ছে না তাদের

মাদক পাচারকারী নারীদের সনাক্ত করতে মহাসড়কসংলগ্ন প্রতিটি থানায় পুরুষের পাশাপাশি নারী পুলিশ নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা এবং থানাগুলোতে আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় নারী পুলিশ নিয়োগ দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

গত বছর আলেখারচর থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার মহাসড়কের বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি থানা পুলিশ এবং আমতলী, ইলিয়টগঞ্জ দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক মাদক পাচারকারীকে আটক করে, যার সিংহভাগই নারী

পুলিশের হাতে আটক মাদক পাচারকারী নারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তাদের বেশির ভাগ গার্মেন্ট শ্রমিক পতিতা

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চান্দিনা থানা পুলিশ কেজি গাঁজাসহ দুই তরুণীকে আটক করে তারা প্যাকেটভর্তি গাঁজা শরীরের সঙ্গে চিকন তার দিয়ে পেঁচিয়ে যাত্রীবেশে গাড়িতে বসেছিলেন মাদক পাচারকারী বীথি সোনিয়া জানান, তারা শুধুই বহনকারী

মাদক ব্যবসায়ীরা কুমিল্লা শুয়াগাজী থেকে তাদের কিনে দেয় তারা ঢাকায় পৌঁছে দিলে জনপ্রতি ৫শ টাকা পায় এর আগে তারা হোটেলে কাজ করতো

একই মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে শরীরে বাঁধা ফেনসিডিলসহ চান্দিনা থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়া কুমিল্লা সদর উপজেলার রোজি আক্তার (২২) জানান, তিনি ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় করতেন পরে জড়িয়ে পড়েন মাদক পাচারে

কারণ হিসেবে তিনি জানান, পোশাক কারখানায় প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কাজ করে মাসে হাজার টাকা পেতেন অন্যদিকে, ১০০ বোতল ফেনসিডিল কুমিল্লা থেকে ঢাকায় নিয়ে গেলে পাওয়া যায় এক হাজার টাকা

চলতি মাসের তারিখ কুমিল্লা সদরের শাহপুর এলাকা থেকে শরীরে শতাধিক ফেনসিডিল বাঁধা অবস্থায় মা রাফিয়া বেগম মেয়ে ইতি আক্তারসহ চার নারীকে আটক করে বিজিবি অন্য দুজন হলেন- হাবু বেগম সারিকা আক্তার

পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা বাংলানিউজকে জানান, মাদক পাচারকারীদের বেশির ভাগই নারী তবে অভিযান চালিয়ে অনেক ভদ্রবেশী নারীকে আটক করা গেলেও আমরা তাদের দেহ তল্লাশি করতে পারি না এক্ষেত্রে প্রত্যেক থানায় নারী পুলিশদের বাসস্থান নিশ্চিত করে তাদের নিয়োগ দেওয়া গেলে অনেক নারী মাদক পাচারকারী আটক সম্ভব হতো

ব্যাপারে কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি-মুরাদনগর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম বাংলানিউজকে জানান, এদেশের নারীরা রক্ষণশীল শালীনতার প্রশ্নে অনেক নারী মাদক পাচারকারীদের সঠিকভাবে চেক করা যায় না

Comments

Popular posts from this blog

চান্দিনা উপজেলা’র অভিভাবক নির্বাচিত করবে সোয়া ২ লাখ ভোটার

তুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পঞ্চম তফসিলে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আজ। উপজেলার প্রায় সোয়া ২লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে যোগ্য চেয়ারম্যান তথা অভিভাবক এবং ২জন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন। সোমবার সকাল ৮টা থেকে উপজেলার ১টি পৌরসভা ১৩টি ইউনিয়নের ৭২টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। ভোট গ্রহনের জন্য প্রিজাইডিং অফিসারসহ ১হাজার ৫৬০জন ও প্রায় ১ হাজার ৬শ জন আইন-শৃঙ্খলা সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৭২জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪৯৬জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার, ৯৯২জন পুলিং অফিসার নিয়োজিত আছে। এদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট গ্রহনের লক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। ১জন বিচারিক ম্যাজিষ্ট্রেট, ৬জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, ১১১জন  সেনা সদস্য, ৭২জন বিজিবি, ২প্লাটুন র‌্যাব, ৪৮১জন পুলিশ, ৮৬৪জন আনসার নিয়োগ করেছেন। অপরদিকে এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৪ প্রার্থী থাকলেও আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ নাজমূল আহসান মজুমদার রিপন নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর কারণে মূলত চেয়ারম্যান পদে ৩ প্রার্থী আজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তারা হলেন আও...

চান্দিনা উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্যানেল বিজয়ী

চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পঞ্চম তফসিলে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্যানেল বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। উপজেলা কন্ট্রোল রুমে সহকারি রিটার্নিং অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন পৃথকভাবে ৭২টি কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা করেন। রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি। তবে, ঘোষণার প্রস্তুতি চলছিল। আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা তপন বকসী চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে ১,৩১,০৬৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত অপর প্রার্থী অধ্যাপক আবু তাহের টেলিফোন প্রতীকে ১৮,০২৮ ভোট পেয়েছেন। বিএনপি সমর্থিত অপর প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দিন ভূইয়া দোয়াত কলম প্রতীকে ১৬,৭৩৯ ভোট পেয়েছেন। কাপ-পিরিচ প্রতীকে নাজমূল আহসান মুজমদার রিপন ৩৫৫ ভোট পেয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন চশমা প্রতীকে ১,১৯,০৫০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি এলডিপি সমর্থিত শরীফুজ্জামান তালা প্রতীকে ২৬,৮১৪ ভোট, অপর প্রার্থী জামায়াত সমর্থিত মাও. মোশারফ হোসেন টিউবওয়েল প্রতীকে ১৭,৮৯৫ ভোট পেয়েছ...

ইন্টারনেটে যশোরের কয়েক শ’ নারী পুরুষের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস,লজ্জায় ঘরে অন্তরীন ভুক্তভোগীরা

যশোরে সাইবার ক্রাইম বাড়ছে। শিকার হচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি জেলার সদর উপজেলার সূতীঘাটা কুয়াদা এলাকায় এ রকম বেশ কয়েকটি সাইবার সেন্টার থেকে কয়েক শ’ তরুণ-তরুণীর বিকৃত ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করার পর ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এদিকে সাইবার ক্রাইমের শিকার তরুণ-তরুণী ও গৃহবধূরা লোকলজ্জার ভয়ে এখন ঘরে অন্তরীণ। বন্ধ হয়ে গেছে অনেকের লেখাপড়া। কেউ কেউ লোকলজ্জার ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অপরদিকে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আটক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলনমুখর হয়ে উঠেছে এলাকার অভিভাবক ও ক্ষতিগ্রস্তদের স্বজনরা। মিছিল-মিটিংয়ের পাশাপাশি চলছে মানববন্ধন আর বিক্ষোভ প্রদর্শন। এসব ঘটনায় থানা পুলিশ হলেও অজ্ঞাত কারণে এখনও জড়িতদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। যশোর শহর ও শহরতলীতে ব্যাঙের ছাতার মতো সাইবার ক্যাফে গড়ে উঠেছে। সামান্য পুঁজিতে এ ব্যবসা করা যায় বলে এর প্রসারতা দিন দিন বাড়ছে। ছোট্ট একটি ঘর, একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ আর একটি ইন্টারনেটের লাইন থাকলেই এ ব্যবসা শুরু করা যায়। ফলে দিন দিন বেকার সমস্যার সমাধানে যুবকরা এই ব্যবসার প্রতি বেশি ...